প্রকৃত সত্য কী? সৌদিতে দুই বাংলাদেশীর মৃত্যুদণ্ড এবং বাস্তবতা

 14ই অক্টোবর 2026 এইতো চার পাঁচ দিন আগের ঘটনা সৌদিতে

আমার দেশের দুই নাগরিককে শিরোচ্ছেদ করা হলো কিসের অভিযোগে কোন অপরাধে অভিযোগ হলো তারা নাকি মক্কা শহরের কোন এক মসজিদে অনৈতিক কাজ করেছে কয়েক মাস ধরে এই মামলা আদালতে ঘরলো ফিরলো প্রক্রিয়া চলল তারপর অবশেষে 14 অক্টোবর মৃত্যুদন্ড দেওয়া হলো তাদেরকে অথচ এখনো পর্যন্ত সৌদি কর্তৃপক্ষ স্পষ্ট করেনি ঠিক কি কাজ করেছিল তারা মসজিদে  অনৈতিক কাজটা আসলে কি ছিল সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হলো আমার দেশের মানুষ রোজ পাঁচবার যে দেশের অভিমুখী হয়ে নামাজ  পড়ে আমার দেশের 90 শতাংশ মানুষ যে দেশকে পবিত্র বলে জানে যে দেশে মানুষ লাখ লাখ টাকা খরচ করে হজ করতে যায় যে দেশের সাথে বাংলাদেশীদের হৃদয় আবেগ অনুভূতি সম্পর্ক। আধ্যাত্মিক এক সম্পর্ক। সেই দেশে ইসলামের নামে আমাদের দেশের দুজনকে মেরে ফেলল। অথচ আমাদের দেশের সরকারকে জানানোরও প্রয়োজন মনে করল না তারা। সরকার জানল তখন যখন দুটি তাজা প্রাণ ঝরে গেল। দুটি মস্তক যখন মাটিতে লুটিয়ে পড়ল। দুঃখিত দর্শক এই ভিডিও বার্তা কোন কাজের না। আসলে আমরা কেবল কাঁদতে পারি। আমরা রাখতে পারি। আমরা ঘৃণা খোভ প্রকাশ করতে পারি কিন্তু আমাদের কান্না ঘৃণা খোপ ওই দুটি মানুষকে বাঁচাতে পারবে না কিন্তু তারপরেও এই ঘটনা আর না ঘটুক সেজন্য কিছু বলা দরকার প্রয়োজন মনে করছি আপনাদের জানা দরকার এই মৃত্যুর কারণ কি আসলে আমাদের করণীয় কি [মিউজিক] কোন সে মতবাদ কোন সে বিচার ব্যবস্থার বলি হয়েছে আমার দেশের দুটি নাগরিক যেহেতু এখনো পর্যন্ত সৌদি কর্তৃপক্ষ এটা স্পষ্ট করেনি যে তারা কোন ধরনের অনৈতিক কাজ করেছিল তাই এ নিয়ে ধোয়াসা কল্পনাজল্পনা অমান করা নানান ধারণার জন্ম নিয়েছে। কেউ বলছে তারা স্বামী স্ত্রী ছিল। বারান্দায় বা মসজিদ প্রাঙ্গণে কেবল চুমু খেয়েছিল। এসব কথা নিশ্চিত নয় শোনা কথা। স্পষ্ট প্রমাণিত সত্য হলো মসজিদে অনৈতিক কাজে মসজিদের সম্মান নষ্ট করেছে তারা। কোন ধরনের অনৈতিক কাজ সেটা সৌদি কর্তৃপক্ষ এখনো স্পষ্ট জানায়নি। যারা এই হত্যাকাণ্ডটিকে জাস্টিফাই করতে চাচ্ছেন তারা আগবাড়িয়ে বলছেন মসজিদে তারা হয়তো ব্যভিচার [মিউজিক] করেছে। আর যারা এই নির্মম হত্যাকাণডটিকে মানতে পারছেন না। তারা বিষয়টিকে লঘু করতে বলে যাচ্ছেন তারা স্বামী স্ত্রী ছিল জাস্ট চুমু খেয়েছে। সমস্যাটা এখানেই। এখানে সমস্যাটা। প্রিয় দর্শক যারা এই নির্মম হত্যাকাণ্ডটিকে মানতে পারছেন না তারা যখন স্বামী স্ত্রী বানানোর চেষ্টা করছেন প্রমাণ ছাড়াই তাদেরকে স্বামী স্ত্রী হিসেবে প্রচার করছেন প্রমাণ ছাড়াই তাদের এই প্রচেষ্টা কি প্রমাণ করে না তারা স্বামী স্ত্রী না হলেই এই হত্যাকাণ্ডটি বৈধ এটি তো ধর্ষণ না 100% সত্য তাহলে অনৈতিক কর্মকাণ্ড কিভাবে হলো ধরে নিলাম তারা মসজিদে একজোড়া প্রেমিক প্রেমিকা চুমু খেয়েছে বা অন্তরঙ্গ হয়েছে এইটুকু কারণে মসজিদের সম্মান নষ্ট হয় হয়েছে। মসজিদ জিনিসটা কি? আসলে কিসের মসজিদ? মসজিদ মানে সেজদা দেওয়ার স্থান। আরবি শব্দ মসজিদ। যেখানে সেজদা দেওয়া হয়। হাদিসের ভাষ্য অনুযায়ী উম্মতে মুহাম্মদর জন্য গোটা পৃথিবীটাই হল মসজিদ। মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু সাললাম বলেছেন আমার জন্য পৃথিবীকে সেজদার স্থান ও পবিত্রতা অর্জনের মাধ্যম করা হয়েছে অর্থাৎ মসজিদের ভেতর বাহির দিয়ে আসলে কিছু হয় না যা অন্যায় অনৈতিক খারাপ তা মসজিদের বাইরেও অনৈতিক খারাপ ভেতরে অনৈতিক বা খারাপ প্রশ্ন হলো মসজিদের ভেতর যদি তারা দ্বিপাক্ষিক সম্মতিতে অন্তরঙ্গ হয় এই কাজটা কি অনৈতিক মানে বিয়ে করে জন কাজ করলে কি সেটি নৈতিক হয়ে যাবে নৈতিকতার উচ্চতা হলে কি? মানবতার সাথে কি নৈতিকতার একফার সম্পর্ক নেই? ধরুন আপনার ভগ্নিপতি বা আপনার বাবা যদি আরো তিনটা বিয়ে করে ঘরে তিনটা সতিনে বিয়ে করেই যৌনকর্ম করে সেই বিয়েগুলো কি বড় সুখ বয়ে আনবে আপনার মা ও বোনের জীবনে? তাহলে কেবল বিয়ে করে যৌন সঙ্গম করা কিভাবে নৈতিক হতে পারে? ইসলামের ধ্বজাধারীরা যখন নীতিনৈতিকতার কথা বলে না হাসিই পায়। যে নবী দাসী সেক্স করেছে এবং তার অনুসারীদেরকেও তা করতে উৎসাহিত করেছে যা প্রকারান্তর একটি ধর্ষক। যে নবী মোতাবিয়ের নামে পতিতাবৃত্তিকে বৈধ করেছিল। যে নবী কাফেরদের মেরে তাদের ধনসম্পদ লুট করে উপার্জন করেছে। যে নবী বুড়ো বয়সে ছয় বছরের শিশু মেয়েকে বিয়ে করেছে। যে নবীর 30 40 টা বিয়ের পরেও তার পুত্রবধুকে নগ্ন দেখে সামলাতে না পেরে তাকেও বিয়ে করেছে আল্লাহর নামে। যে নবীর ধোঁকা প্রতারণার মাধ্যমে তাকে না মানা যুক্তিবাদী কবি সাহিত্যিকদেরকে নির্মমভাবে হত্যা করেছে যে নবী শিশু নারীদের হত্যারও অনুমতি দিয়েছে সেই নবীর ধর্মের লোকেরা আমাদেরকে নৈতিকতার কথা শোনাচ্ছে মসজিদে দ্বিপাক্ষিক সম্মতিতে প্রেম চুমু বা আলিঙ্গন বা সঙ্গমে নাকি মসজিদের সম্মান নষ্ট হয় এর চেয়ে হাস্যকর কথা আর কি হতে পারে বলুন তো পৃথিবীতে এর চেয়ে জঘন্যতম মূর্খতার উদাহরণ আর কি হতে পারে  যে সৌদি আজ আমার দেশের দুজন মানুষকে কে দ্বিপাক্ষিক সম্মতির প্রেম ও ঘনিষ্ঠতার অপরাধে হত্যা করেছে না সেই সৌদিতে আমার দেশের বোনরা রোজ রোজ ধোষিত হয় অত্যাচারিত হয় হ্যালো আমি মনে হয় বাঁচবো না আমি মনে হয় বাইরেই যামু চরিত্র খারাপ দুইটা পর্যন্ত কাম কাজ করে ঘুমাইলে দরজা গিয়া রাখায় বাবা আসে চলে আসেন কি বলবা সৌদি আরব আসছি আমারে ভালো কাজের কথা বইলা নিয়ে আসছি তারা আমার সাথে খুব জঘন্য কাজ করছে আমার সাথে তারা নির্যাতন করছে, টর্চার করছে। ভালো কাজের কথা বইলা আমাকে তারা হায়নাদারের মত ছিড়া ছিড়া খাইতেছে। আমি প্রত্যেকটা মুহূর্ত মৃত্যুর সাথে বাঞ্জা লড়তাছি। আমি জানি কি, আমি জানিনা আমি বাঁচবো কিনা মরব। গত সাত বছরে মধ্যপ্রাচ্যের দেশ থেকে আমার দেশের 74 জন নারী কর্মচারী লাশ হয়ে ফিরেছে। এদের সাথে কি হয়েছে? ধর্ষণের পর খুন হয়েছিল অনেকেই এদের মধ্যে কোন ধর্ষক বা খুনর বিচার হয়েছে কেউ বিচার চেয়েছে প্রায়শী সংবাদ মাধ্যমে শুনবেন আমার দেশের নারীরা কান্না করে তাদের সাথে ঘটে যাওয়া নির্যাতনের কথা শোনাছে আর বাকিরা তো বলতেও পারেন না লাশ হয়ে ফিরেন বিচার হয়েছে কোন সৌদি নাগরিকের মৃত্যুদন্ড শিরোচ্ছেদ কিছুই  হয় নাই কেন জানেন ইসলাম অনুযায়ী তারা এটাকে হালাল মনে করে ভাই ইসলামের কৃতদাসীদের সাথে সেক্স জায়েজ বৈধটি বিষয়। যদিও পশ্চিমাদের চাপের কারণে 1962 সালে তারা এই দাসপ্রথা নিষিদ্ধ করেছিল। কিন্তু তখনও সালেহ আল ফাউজান এর মত বিখ্যাত ইসলামিক স্কলারগণ এই দাসপ্রথা নিষিদ্ধের বিরোধিতা করেছিল। তারা বলেছিলেন রাষ্ট্রতা নিষিদ্ধ করলেও ইসলামে তা সম্পূর্ণ জায়েজ  থাকবে কিয়ামত পর্যন্ত সুন্নত এবং বৈধ। এই আরবরা যেহেতু সরাসরি সেটি আইনগত কারণে করতে পারছে না তাই ভিন্নভাবে করছে। কারণ1400 বছর ধরে তাদের পূর্বপুরুষরা যা করে আসছে সেই অভ্যাস তো সহজে ছাড়া যায় না।

তো বাঙালিদের তারা কৃতদশী মনে করে। শুধু নারী না সৌদিয়ানদের থেকে আমাদের দেশের ছেলেরাও নিস্তার পায় না।

সৌদি ছেলেরা মাঝে মধ্যে কাজের প্রবন্ধ দেখায়া বা টাকার লোভ দেখাইয়া ও রুমে নিয়ে যায়। সব দেখছি তো ভাই। এখন তো সবতো খোলামেলা বলা সম্ভব না। সৌদি ছেলেরা মাঝে মধ্যে কাজের প্রবলেম দেখাইয়া বা টাকার লোভ দেখাইয়া ও রুমে নিয়া যায়। রুমে নিয়ে আপনারে উল্টাপাল্টা কথা কইব। না কইলে আপনারে মারদর করব। জিম্মি করব স্বাভাবিক। আমরা তো জানি সৌদি আরব অনেক আইন অনেক মনে করেন কিভাবে মনে করেন যে আপনি বাংলাদেশ থেকে দেখেন আর আমরা ওইখান থেকে সরাসরি দেখছি আকাশ পাতাল ডিফারেন্স সুইট দেখেন কি আমি সব দেখছি তো ভাই এখন তো সবকিছু তো খোলামেলা বলা সম্ভব না এরকম বহু ঘটনা আমাদের সামনে এসেছে সেই ধর্ষক সৌদিয়ানরা প্রেমের বিচার করছে এটা মানা যায় এই 2026 সালে এসে এমন সভ্য যুগে কেমন অসভ্য কাজ করছে আমাদের চোখের সামনে অথচ সেই ধর্মের বিরুদ্ধে কিছু বললে ধর্মে যা আছে তাই মেনে না নিয়ে প্রতিবাদ করলে তাকে মরতে হচ্ছে আমাদের দেশে। সেই ইসলামের সমালোচনার জন্য সেই ইসলাম নিয়ে যৌক্তিক প্রশ্নের জন্য আমার দেশেই কাউকে হাসপাতালে গিয়েও মেরে ফেলা হচ্ছে।

তো এই জাতি করবে সৌদির বিচার সৌদিদের বিচার।

আজ এই মৃত্যুদন্ডের জন্য প্রচুর আলহামদুলিল্লাহ কমেন্ট দেখতে পাচ্ছি। এর ব্যাপারে কিছু বলার নাই। কিন্তু অনেক মুসলিমকেও আজ এই ঘটনার জন্য সৌদির সমালোচনা করতে দেখতে পাচ্ছি।  কিন্তু আশ্চর্যের ব্যাপার হলো তারা ইসলামকে বাঁচিয়ে সৌদির সমালোচনা করছে। মনে হয় তারা এর জন্য লজ্জিত। কিন্তু তাদের প্রিয় নবীর দেশ সৌদির সমালোচনা করাটাকে কিছুতেই নিতে পারছে না তারা। যখন ইসলাম সম্পর্কে জানাশোনা যুক্তিবাদী মানুষরা সৌদির এই ঘটনায় সৌদির সাথে সাথে  ইসলাম নবী নবীর দেশের মানুষের সমালোচনা করছে আদালতের কাঠগড়া দাড় করাচ্ছে। স্বয়ং নবীকে তখন তারা লজ্জিত হয়ে দ্বিচারিতার আশ্রয় নিচ্ছে। তারা বলছে সৌদি শুধু নবীর দেশ না সৌদি নাকি আবু জাহেলেরও দেশ। এ কারণে সব ঘটনা ঘটছে। চিন্তা করুন কি হাস্যকর কথা। আবু জাহেলকে সড়েশ বছর আগে মেরে ফেলা হয়েছে। তার অনুসারীদেরকে হত্যা করা হয়েছে।  আবু জাহেলের আদর্শকে হত্যা করা হয়েছে। আবু জাহেলের প্রকৃত নাম আবুল হাকামকে হত্যা করে বিকৃত নাম আবু জাহেল রাখা হয়েছে। আবু জাহেলের ঘরকে টয়লেট হিসেবে ব্যবহার করছে সৌদিরা। ওই সৌদিতে যে সভ্যতা আজ আছে তা কেবলই মোহাম্মদের সভ্যতা মোহাম্মদেরই আদর্শ। অথচ আজ ওই দেশে মানুষের বোধগম্য হয় এমন কোন অন্যায় অবিচার জুলুম নির্যাতন হতে দেখলে এরা মুসলিমরা বলছে সৌদি আবু জাহেলের দেশ হওয়ায় নাকি অন্যায় অবিচার হচ্ছে। বলুন তো এই মূর্খতার অত্যাচার কি সহ্য করা যায়? নবীর 10 বছরের শাসন চার খলিফার 29 বছরের খেলাফা প্রায় 1300 বছর লাগাতার চলে আসা ইসলামী খেলাফত এরপরেই 102 বছর ধরে চলে আসা ইসলামী শরীয়া এইসব কি সৌদির মানুষকে সভ্য বানাতে পেরেছে তাদের চরিত্র পাল্টাতে পেরেছে সবচেয়ে বড় বিষয় হলো এই সময়টা জুড়ে কখনো কোন অমুসলিম বা আবু জাহেলের ধর্মের অনুসারে কি ক্ষমতায় ছিল এই ব্যর্থতা কি আবু জাহেলের নাকি মোহাম্মদের বলুন তো সেদিন সেশ বছর আগের দিনটিতে যদি আবু জাহেলের জায়গায় মোহাম্মদ নামক মানুষটি মরে যেত ভাগ্যক্রমে যদি আবু জাহেল বেঁচে যেত তাহলে আজ পৃথিবীর এমন অন্যায় অরাজকতা দেখতে হবে না আজ মুসলিমরা যে যুগকে আইয়ামে জাহেলিয়াত বলছে তা মূলত শুরু হয়েছে মোহাম্মদের যুগ থেকে আজও সেই অন্ধকারাচ্ছন্নতা অবহাল আছে স্বর্ণযুগের মৃত্যু ঘটিয়ে আসলে মোহাম্মদ কাল্পনিক স্রষ্টার  নামে শুরু করেছে এক অন্ধকার যুগের সূচনা আইয়ামে জাহিলিয়াত প্রকৃত অন্ধকারাচ্ছন্ন তাই আজ বিশ্বাসের জন্য মানুষ মরছে আজ মানুষ মরছে সামান্য কথা বলার জন্য প্রশ্ন করবার জন্য যুক্তি দেখানোর জন্য অন্ধভাবে কাউকে বিশ্বাস না করবার জন্য আজ মানুষ মরছে সামান্য চুমুক হওয়ার জন্য ভালোবাসার জন্য মানুষ মরছে প্রেমের জন্য এক ধর্ষণ করা জনগোষ্ঠী প্রেমের বিচার করছে মৃত্যুদন্ড দিয়ে একটু একটু একটু কি ভেবে দেখেছেন ব্যাপারটা কেমন এ পৃথিবীর মানব ইতিহাসে এর চাইতে কলঙ্কিত অধ্যায় বোধয় আরেকটিও নেই। আসলে 1400 বছর আগে পৃথিবীতে মানবতার অস্তিত্বের অবসান ঘটিয়ে ইসলাম অস্তিত্ব লাভ করেছে। আজ মানুষ মরলে দুঃখ পায় না কেউ। সে মানুষটা নিজ ধর্মের কিনা, বর্ণের কিনা, নিজ জাতিগোষ্ঠীর কিনা, মতের কিনা, পথের কিনা সেসব দেখা হয়। আজ হিন্দু মরলে মুসলিমরা আলহামদুলিল্লাহ বলে। খ্রিস্টান বললে মুসলিমরা আলহামদুলিল্লাহ বলে। ইহুদি বললে

আলহামদুলিল্লাহ বলা হয়। যে কোন নরমুসলিম বল মরলে আলহামদুলিল্লাহ বলা হয়। শুধু মুসলিম মরলেই মুসলিমদের বুকে ব্যথা হয়, চোখে জল আসে। অবশ্য মুসলিমের ক্ষেত্রেও ভাগ আছে। হানাফি না শাফি, মালেকিনা হাম্বলী, আহলে হাদিস নাকি মাযহাবী? আহলে সুন্নত নাকি আহলে কোরআন? শিয়া নাকি সুন্নি, সুন্নি নাকি ওয়াহাবী? মানবতা শত দলে বিভক্ত হয়ে গেছে। এখন আর যদি ভারতে এই একই ঘটনা ঘটতো না তাহলে পুরো বাংলাদেশ আজ গর্জে উঠতো। কিন্তু সৌদির এমন কাজে সবাই এখন নাকি তেল দিয়ে ঘুমাচ্ছে। মানবতা এখন ধর্ম হিসেবে মানচিত্র হিসেবে রাজনীতির স্বার্থে বিভাজিত হয়েছে। দর্শক শুধু এখানেই শেষ নয় যে ঘটনাটি সৌদিতে ঘটেছে তা আসলে ইসলামের বিধানকে লঙ্ঘন করে হয়েছে। 

তাই ঘটনায় সৌদির সমালোচনা কেবল মানুষরাই করছে না। অনেক মুমিন মুসলিমরাও করছেন। নজরুল ইসলাম ও সিথি আক্তার না সুইটি আক্তার। আমি জানিনা নামগুলো নিয়ে নানানভাবে নানান পত্রিকা আমি নানানভাবে শুনেছি। আমরা একটা নাম ধরে নেই সিথি আক্তার স্বামী স্ত্রী হোক বা প্রেমিক প্র্রেমিকা যদি জিনাও হয়ে থাকে তবু এই ঘটনার জন্য তাদের মৃত্যুদন্ড কোনভাবেই ইসলামের বিধান নয় এটি যে জিনা বা ব্যভিচার নয় তা স্পষ্ট সৌদি কর্তৃপক্ষের বিবৃতিতেই কারণ নজরুল ইসলাম ও সিথি আক্তারকে মৃত্যুদন্ড দেয়া হয়েছে তাজিরের ভিত্তিতে এটি পত্রিকায় এসেছে তাজির হল কোরআন হাদিসের হদ বা শাস্তি ব্যতীত বিচারক কর্তৃক নির্দিষ্ট শাস্তিকে বোঝানো হয় যেহেতু তাজিরের ভিত্তিতে এই সাজা দেওয়া হয়েছে সেহেতু হদ কায়েম হবে এমন কোন প্রমাণ মেলেনি।

[গলা পরিষ্কার করা] এটি স্পষ্ট। যদি এটি তাজিরি হয় তাহলে এটি সরাসরি ইসলাম পরিপন্থী। মুহাম্মদের সহী হাদিসের স্পষ্ট বিরোধী কাজ। কারণ [মিউজিক] সহী বুখারী ইসলামী ফাউন্ডেশন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি সাল্লাম বলতেন আল্লাহর নির্ধারিত হজ সমূহের কোন হদ ব্যতীত অন্য ক্ষেত্রে 10 কষাঘাতের ঊর্ধে দন্ড প্রয়োগ করা যাবে না। স্পষ্ট সহীহ হাদিসের বক্তব্য হল তাজিরের সর্বোচ্চ শাস্তি হল 10 বেত্রাঘাত এর বেশি না। অথচ সৌদি কর্তৃপক্ষ কিভাবে তাদের তাজিরের ভিত্তিতে মৃত্যুদণ্ড দিল। সবচেয়ে বড় প্রশ্ন এটি।  শুধু তাই নয় চার মাযহাবের কোন মাযহাবেই এমন বিধান নেই। তাজিরের সর্বোচ্চ শাস্তি নিয়ে ইমামদের মাঝে মতনৈক্য রয়েছে। ইমাম আবু হানিফার মতে সর্বোচ্চ 39 বেত্রাঘাত। ইমাম  শাফির প্রসিদ্ধ মত এটি। অর্থাৎ 39 বেত্রাঘাত। হাম্বলি মাযহাব অনুযায়ী সর্বোচ্চ 10 বেদ্রাঘাত। মালিকি মাযহাব মতে অবশ্য নির্দিষ্ট সংখ্যায় সীমাবদ্ধ নয়। অর্থাৎ সহিহ হাদিস মতে চার মাযহাবের কোন মত অনুসারী তাজিরের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদন্ড নয়। তারপরেও ওরা দুজনকে মৃত্যুদন্ড দিয়েছে।  এক কথায় ধর্মের বরতাকেও ছাড়িয়ে গেছে এই বরবরতা। [মিউজিক] চিন্তা করেছেন অবস্থা।

14 minutes, 32 secondsঅনেকে হয়তো আঘাত পেতে পারেন নবীর ব্যাপারে যা বলছি এসব মিথ্যে ভেবে। তাদের বলব এগুলো সবই কোরআন হাদিসের কথা ভাই। একটা কথাও আমার নিজ থেকে বলা না। আপনার বিশ্বাস না হলে দেশের সর্বোচ্চ বড় আলেম যারা আছেন আহমদুল্লাহ আজহারী তাদের সঙ্গে বসিয়ে দিন। আমি প্রমাণ করে ছাড়বো আমার বলা প্রতিটি কথাই সত্য কোরআন হাদিস অনুযায়ী। তাই বিচার আপনাদের কাছে। একাজটি কতটা অমানবিক ভেবে দেখুন। একেত ইসলামের বিধানগুলি অসভ্য। সেই অসভ্যতাকে হার মানিয়েছে এই ঘটনা। তাই আস্তিক হন বা নাস্তিক, ধার্মিক হন বা অধার্মিক। এই ঘটনা মানবতা বিরোধী এটি স্পষ্ট। ইসলামের স্পষ্ট বিধান বিরোধী। তাই এটিকে কোনভাবেই সমর্থন করা যায় না। আপনি আস্তিক হন বা নাস্তিক, ধার্মিক হন বা অধার্মিক, মুসলিম হন বা অমুসলিম প্রতিবাদ করুন এই ঘটনার। যেন আর কোন নারীকে আর কোন পুরুষকে আর কোন মানুষকে এমন নির্মম নিশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার হতে না হয়।

Post a Comment

Previous Post Next Post