১০৭ বছর বয়সে ইন্তেকাল করেন মসজিদে নববীর একনিষ্ঠ মুসল্লি শায়খ মহিউদ্দিন হাফিজুল্লাহ (রহ.)

 🕋 ১০৭ বছর বয়সে ইন্তেকাল করেন মসজিদে নববীর একনিষ্ঠ মুসল্লি শায়খ মহিউদ্দিন হাফিজুল্লাহ (রহ.)


ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। 🤲

পবিত্র মদিনা নগরীর মসজিদে নববীর সঙ্গে গভীর ভালোবাসা ও দীর্ঘদিনের সম্পর্কের জন্য পরিচিত ছিলেন শায়খ মহিউদ্দিন হাফিজুল্লাহ (রহ.)। ১০৭ বছরেরও বেশি বয়সে ২০২১ সালের ১৮ জুন, জুমার নামাজের সময় তিনি ইন্তেকাল করেন বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। তাঁর জীবনের সবচেয়ে আলোচিত দিক ছিল, প্রায় ৫০ বছর ধরে মসজিদে নববীতে নিয়মিত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায়ের অভ্যাস।


🕌 মসজিদে নববীর প্রতি ছিল গভীর ভালোবাসা

সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, শায়খ মহিউদ্দিনের বাসস্থান ছিল মসজিদে নববী থেকে প্রায় তিন কিলোমিটার দূরে মদিনার কারবান ও তাজুরি এলাকার কাছে। বয়সের ভারে তাঁর পিঠ বাঁকা হয়ে গেলেও তিনি নিয়মিত হেঁটে মসজিদে যেতেন। দীর্ঘ প্রায় ৩০ বছর ধরে তাঁকে এভাবে মসজিদে যাতায়াত করতে দেখেছেন বলে জানিয়েছেন মদিনার ইসলামি স্থাপনা ও ঐতিহ্যবিষয়ক বিশেষজ্ঞ মুহাম্মদ আবু মালিক।

🌙 ছিল তাঁর এক অসাধারণ দৈনন্দিন রুটিন

বর্ণিত তথ্য অনুযায়ী, তিনি ফজরের নামাজের প্রায় দুই ঘণ্টা আগে ঘর থেকে বের হতেন। পথে চলতে চলতে আল্লাহর জিকির করতেন। মসজিদে নববীর বাবুস সালাম গেট দিয়ে প্রবেশ করে ফজরের নামাজ আদায় করতেন এবং ইশরাকের নামাজ পর্যন্ত সেখানে অবস্থান করতেন।

এরপর ঘরে ফিরে আবার জোহরের আগেই মসজিদে আসতেন। দিনের বাকি সময়ও মসজিদে কাটিয়ে এশার নামাজ আদায়ের পর ঘরে ফিরতেন। জীবনের দীর্ঘ সময় ধরে তিনি এই নিয়ম মেনে চলেছেন বলে প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনায় উঠে এসেছে।

📖 কোরআন তিলাওয়াত ও আল্লাহর জিকির ছিল তাঁর সঙ্গী

মুহাম্মদ আবু মালিকের স্মৃতিচারণ অনুযায়ী, শায়খ মহিউদ্দিন ছিলেন হাস্যোজ্জ্বল, কোমল হৃদয়ের এবং আল্লাহর জিকিরে অভ্যস্ত একজন মানুষ। পবিত্র কোরআন তিলাওয়াতের সঙ্গে তাঁর গভীর সম্পর্ক ছিল। তাঁর জীবনযাপনে ধর্মীয় অনুশীলন ও মসজিদে নববীর প্রতি ভালোবাসা বিশেষভাবে প্রকাশ পেত।


💔 একাকী জীবন, কিন্তু ইবাদতে ছিল গভীর টান


প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলোতে বলা হয়েছে, তাঁর স্ত্রী বা সন্তান ছিল না। একজন দানশীল ব্যক্তির সহায়তায় তিনি মসজিদে নববীর কাছে একটি কক্ষে বসবাস করতেন। তাঁর জীবন ছিল সাধারণ, কিন্তু পবিত্র মসজিদে নিয়মিত নামাজ আদায়ের প্রতি তাঁর নিষ্ঠা তাঁকে মানুষের কাছে স্মরণীয় করে তুলেছে।

করোনাভাইরাস মহামারির কারণে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর মসজিদে নববী আবার খুলে দেওয়া হলে মুহাম্মদ আবু মালিক তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। তাঁর বর্ণনা অনুযায়ী, তখন শায়খ মহিউদ্দিনের চোখে আনন্দের অশ্রু দেখা গিয়েছিল। মসজিদে নববী ও রওজা শরিফে ফিরে আসার আকাঙ্ক্ষা তাঁর মধ্যে প্রবল ছিল।

⚰️ মৃত্যু ও দাফন

প্রকাশিত সংবাদ অনুযায়ী, ২০২১ সালের ১৮ জুন তিনি ইন্তেকাল করেন। পরদিন মসজিদে নববীতে তাঁর জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয় এবং তাঁকে মদিনার ঐতিহাসিক জান্নাতুল বাকিতে দাফন করা হয়। এই কবরস্থানে ইসলামের বহু বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব ও সাহাবির কবর রয়েছে।

🌹 তাঁর জীবন থেকে আমাদের শিক্ষা

শায়খ মহিউদ্দিন হাফিজুল্লাহ (রহ.)-এর জীবনের গল্প আমাদের মনে করিয়ে দেয়—ইবাদতের প্রতি ভালোবাসা, নিয়মিত নামাজ, কোরআন তিলাওয়াত এবং আল্লাহর স্মরণ একজন মানুষের জীবনে কতটা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। বয়স, শারীরিক কষ্ট কিংবা সাধারণ জীবনযাপন—কোনোটিই তাঁর নিয়মিত ইবাদতের আকাঙ্ক্ষাকে সহজে থামাতে পারেনি বলে বর্ণনায় উঠে এসেছে।

তবে কারও প্রকৃত মর্যাদা ও আখিরাতের পরিণতি সম্পর্কে চূড়ান্ত জ্ঞান একমাত্র মহান আল্লাহরই রয়েছে।

🤲 দোয়া: মহান আল্লাহ শায়খ মহিউদ্দিন হাফিজুল্লাহ (রহ.)-কে ক্ষমা করুন, তাঁর কবরকে নূরে পরিপূর্ণ করুন এবং তাঁকে জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করুন। আমিন, ইয়া রব্বাল আলামিন।

Post a Comment

Previous Post Next Post