জুলাইয়ে আহত গাজীপুরের নবম শ্রেণির বাপ্পি


 ২০২৪ সালের ৩ আগস্ট জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় গাজীপুরের মাওনা চৌরাস্তায় গুলিবিদ্ধ হয়ে স্থায়ীভাবে পঙ্গুত্ব বরণ করে নবম শ্রেণির ছাত্র মো. বাপ্পি। দেশ-বিদেশের বিভিন্ন হাসপাতালে তার চিকিৎসার পর সর্বমোট ২৮ বার অস্ত্রোপচার করা হলেও সে আর নিজের পায়ে সোজা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি । বর্তমানে সে গাজীপুরের শ্রীপুর পৌরসভার বেড়াইদেরচালা এলাকায় নিজ বাড়িতে চিকিৎসাধীন ও শয্যাশায়ী অবস্থায় রয়েছে।

বাপ্পির বর্তমান পরিস্থিতি এবং জুলাই আন্দোলনে তার ত্যাগ সম্পর্কিত কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য নিচে তুলে ধরা হলো:

• আহত হওয়ার ঘটনা: ২০২৪ সালের ৩ আগস্ট বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় গাজীপুরের মাওনা চৌরাস্তায় পুলিশের গুলিতে গুরুতর আহত হয় বাপ্পি।

• চিকিৎসা ও দীর্ঘ লড়াই: তার অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় দেশ-বিদেশের বিভিন্ন হাসপাতালে দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসা চলে এবং শরীরের গুরুতর ক্ষত সারাতে টানা ২৮ বার অপারেশন করা হয়। চিকিৎসকদের আপ্রাণ চেষ্টা সত্ত্বেও তার পঙ্গুত্ব দূর করা সম্ভব হয়নি ।

• চোখে একটাই স্বপ্ন: পঙ্গুত্বের অমানুষিক কষ্ট ও জীবন্ত যন্ত্রণা সহ্য করেও বাপ্পির চোখে কোনো আফসোস নেই । তার একটাই স্বপ্ন—স্বৈরাচারী শেখ হাসিনার বিচার নিশ্চিত করা এবং একটি বৈষম্যহীন, সত্যিকারের বদলে যাওয়া বাংলাদেশ দেখা।

• রাষ্ট্রীয় ও রাজনৈতিক মনোযোগ: সম্প্রতি বাপ্পির এই করুণ পরিস্থিতির খবর ছড়িয়ে পড়লে তাকে দেখতে ও খোঁজখবর নিতে তার বাড়িতে যান জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বরা। নেতারা প্রশাসনিক ও আমলাতান্ত্রিক জটিলতা এড়িয়ে জুলাই আন্দোলনে আহত ও স্থায়ী পঙ্গুত্ব বরণকারী বাপ্পির মতো বীরদের উন্নত চিকিৎসা ও পুনর্বাসনে সরকারকে অগ্রাধিকার দেওয়ার জোর দাবি জানান ।

বাপ্পির এই আত্মত্যাগ প্রমাণ করে যে, বাংলাদেশ ২.০ অর্জনে দেশের তরুণ ও কিশোর সমাজ কতটা অকুতোভয় ভূমিকা রেখেছিল। পুরো জাতি বাপ্পির দ্রুত আরোগ্য ও সুস্থ জীবনের জন্য দোয়া প্রার্থী ।

Post a Comment

Previous Post Next Post